সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকবে না: গণপূর্তমন্ত্রী

অনুমোদিত নকশা ও প্রচলিত আইন-বিধি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের সুযোগ আর দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেছেন, ভবন নির্মাণসংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও নীতিমালা থাকলেও অতীতে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হয়নি। এখন থেকে এসব বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভবনের অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল রাখার বিধান থাকলেও অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান বাস্তবে সেগুলো নির্মাণ করেনি। এ ধরনের ব্যত্যয় আর গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুমোদিত নকশায় যেসব অবকাঠামো ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, ভবন নির্মাণের সময় সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, আইন লঙ্ঘন করে ভবন বা আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

রিহ্যাব ও ভূমি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে আইন মানার আহ্বান

আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি বলেন, রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের নিশ্চিত করতে হবে, তাদের কোনো প্রকল্পে যেন ভবন নির্মাণ ও আবাসন উন্নয়নসংক্রান্ত আইন ও বিধির ব্যত্যয় না ঘটে।

সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ করছে রাজউক।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভূমি ব্যবহার ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

রাজধানীর বাইরের ডেভেলপারদের জন্য নীতিমালা

রাজধানীর বাইরের আবাসন প্রকল্পগুলোকেও সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা হবে।

গ্রাহকের টাকা ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে ভোগান্তি নিয়ে উদ্বেগ

মতবিনিময় সভায় আবাসন খাতের গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

তিনি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্রেতা কয়েক বছর আগে অর্থ পরিশোধ করার পরও চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না।

আবার কোনো কোনো ক্রেতা বিভিন্ন কারণে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ অব্যাহত রাখতে না পারায় প্রকল্প থেকে সরে আসতে চাইলেও তাদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন থেকে চার বছরেও অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন তিনি।

এ ধরনের সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের বিষয় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিয়ে আলোচনা

সভায় ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাদের মতামত ও আবাসন খাতের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে দুই সংগঠনের নেতারা প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ এবং আবাসন প্রকল্প উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।

রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, ড. এম এ কাইয়ুম, মো. রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজউল করিম রেজাসহ দুই সংগঠনের সদস্যরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন