শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ভোগে রোগীরা

অব্যাহত লোডশেডিং ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে ছয় থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও তাদের স্বজনরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলে তীব্র গরমে হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর পাশে স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আওয়াল মোল্লা জানান, তিনি চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দিনের তুলনায় রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর পুনরায় চলে যায়। এতে গরমের মধ্যে হাসপাতালে অবস্থান করা রোগীদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

একই হাসপাতালের শিশু রোগী ছয় বছর বয়সী জান্নাতও তীব্র গরমে ভোগান্তিতে রয়েছে বলে তার স্বজনরা জানান। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা ও মাথায় পানি দেওয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শহরের বড় হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হলেও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই সুবিধা নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দীর্ঘ হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়; মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সমস্যার মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা না থাকায় জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় জরুরি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথাসময়ে করানো সম্ভব হয় না। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে রোগের ধরন বিবেচনা করে দ্রুত ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি জেনারেটর বা অন্যান্য বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন