শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৯৫৫

দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগ ও এর উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৯৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮৫৬ জন এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সিলেট বিভাগে আরও দুই শিশুর প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ও উপসর্গ দেখা দেওয়া মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৩১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুই মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও রোগটির উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে ছুটছেন অভিভাবকরা। অনেককে বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ

নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এর প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল ও পানিযুক্ত হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দেওয়া।

তিনি বলেন, রোগ জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস, চোখ ও কানের বিভিন্ন জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘হাম নিয়ন্ত্রণে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তৃণমূলে শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।’

টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের প্রভাব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। লকডাউন, সরবরাহসংকট এবং টিকা নিয়ে দ্বিধার কারণে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা জরুরি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন