শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে ২৫ মহিষ অসুস্থ, ৩টির মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘাস খেয়ে অন্তত ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনটি মারা গেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট)বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।

মহিষের রাখাল, মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাল চরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই মহিষগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে।

প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালরা শতাধিক মহিষকে ঘাস খাওয়াতে লাল চরে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা গেছে। আরও কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রাখাল ও পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ওই ঘাস খাওয়ার কারণেই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করছেন। শত শত মহিষ নিয়মিত চরের ঘাস খেয়ে থাকে, কিন্তু আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘শত্রুতার কারণে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে।

উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন