অনুসরণ করুন:
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক, পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে হঠাৎ কমে গেল সরকারি হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ইরান যুদ্ধের সময় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সরকারি সংখ্যা হঠাৎ পরিবর্তন করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের সরকারি হতাহতের তথ্যভাণ্ডারে (Defense Casualty Analysis System) বুধবার পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১৮ দেখানো হলেও বৃহস্পতিবার তা কমিয়ে ১৪ করা হয়। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের কারণ নিয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এসব মৃত্যু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ঘটেছিল, তাই সেগুলো বর্তমান যুদ্ধের সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এ ব্যাখ্যা অস্বীকার করে বলেছেন, এটি কোনো নীতিগত পরিবর্তন নয়; বরং ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে এবং তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। 

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতা। তাদের মতে, যুদ্ধকালীন হতাহতের সরকারি তথ্য হঠাৎ পরিবর্তন করা হলে জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং সংঘাতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। 

এর আগে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে চার সেনাসদস্যের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশ করেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন এবং ইরাকে একটি ড্রোন বিস্ফোরণে একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই চারজনকে সম্মান জানিয়ে ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে সামরিক মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণের অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা নিয়েও নতুন করে নজর পড়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক মার্কিন সেনা বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই মৃদু আঘাত বা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগই পরে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। 

পেন্টাগনের সরকারি হতাহতের পরিসংখ্যান পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম, সামরিক বিশ্লেষক এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দিকেই নজর থাকবে। 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন