মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সিঙ্গাপুরের মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিমের পদত্যাগ

এক নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের জেরে সিঙ্গাপুরের মুসলিম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিম পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং আজ সোমবার (২০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ফয়সাল ইব্রাহিম ও ওই নারীর মধ্যকার অধিকাংশ যোগাযোগই হতো অনলাইন বার্তার মাধ্যমে। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠানের ফাঁকেও তাঁদের দেখা হতো বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

পাল্টাপাল্টি হয়রানির অভিযোগ ও তদন্ত

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানান, এই ঘটনার পর উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে কোনো পক্ষের দ্বারাই কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি এবং কোনো ধরনের ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না।

তা সত্ত্বেও একজন রাজনৈতিক পদধারী ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্যের কাছ থেকে যে ধরনের আদর্শ আচরণ প্রত্যাশা করা হয়, ফয়সালের এই কর্মকাণ্ড সেই মানদণ্ড বজায় রাখতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

‘ভুল সিদ্ধান্তের’ কথা স্বীকার ও দুঃখপ্রকাশ

২০০৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফয়সাল ইব্রাহিম ২০২৫ সালে মুসলিম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এই ঘটনার পর তিনি তাঁর ক্যাবিনেট পদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) থেকেও পদত্যাগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে ফয়সাল ইব্রাহিম লিখেছেন, “আমাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না এবং আমি এটি তেমন কোনো সম্পর্কে রূপ নিক তাও চাইনি। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের বড় ভুল ছিল এবং প্রথম দিকেই সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিতে না পারাটা আমার ব্যর্থতা।” এমন পরিস্থিতিতে ফয়সাল ইব্রাহিমের রাজনীতি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং。

টানা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন দল

সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) সাধারণত তাদের নিষ্কলঙ্ক বা সততার সুনামের জন্য গর্ববোধ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে দলটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

 ২০২৩ সালের দুর্নীতি কাণ্ড: ২০২৩ সালে দেশটির তৎকালীন পরিবহন মন্ত্রী সুব্রামণিয়ম ইশ্বরনের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ান বিলিয়নেয়ার হোটেল টাইকুন ওং বেং সেং-এর সাথে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে ওং-এর ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে লাখো ডলারের উপহার নেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেন ইশ্বরন।

 আবাসন বিতর্ক বিরোধী দলের পদত্যাগ: একই বছর দেশটির আরও দুই সিনিয়র মন্ত্রীকে সরকারি সম্পত্তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হন। এছাড়া সিঙ্গাপুরের বৃহত্তম বিরোধী দলের দুই শীর্ষ নেতাও পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করে ২০২৩ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

পরপর ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ফয়সাল ইব্রাহিমের এই পদত্যাগের ঘটনা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন