কানাডার অন্টারিও প্রদেশে একটি হ্রদে ক্যানো ডুবে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন সাইফুজ্জামান গুড্ডু এবং বিজিএমইএ’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহিল রাকিবের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ জুন) দুপুরে অন্টারিওর লিনজি শহরের কাওয়ার্থা লেক এলাকায় একটি কটেজের পাশের হ্রদে ক্যানোয়িং করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সঙ্গে ছিলেন রাকিবের কিশোর পুত্রও। দুর্ঘটনার সময় হঠাৎ বাতাসে ক্যানো উল্টে গেলে রাকিবের ছেলে সাঁতরে তীরে ফিরতে পারলেও দুই বন্ধু সাইফুজ্জামান গুড্ডু ও আব্দুল্লাহিল রাকিব পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশের মেরিন ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস এবং এভিয়েশন টিম উদ্ধার অভিযানে নামে। পরে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ক্যানোয় আরোহীদের কারও পরনে লাইফ জ্যাকেট ছিল না, যা প্রাণহানির অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডার ফাউন্ডিং প্রেসিডেন্ট সুবির কুমার দে জানান, তারা তিনজন মিলে ক্যানো করে হ্রদে নামেন। আবহাওয়ার অবনতি এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাত্র তিন ঘণ্টার অবকাশ যাপনের মধ্যেই বাংলাদেশ হারায় দুই জন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিকে।
উল্লেখ্য, ক্যাপ্টেন সাইফুজ্জামান গুড্ডু বাংলাদেশ বিমানের একজন জ্যেষ্ঠ পাইলট ছিলেন। কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার কারণে সহকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। অন্যদিকে আব্দুল্লাহিল রাকিব ছিলেন তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা এবং বিজিএমইএ’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি একইসাথে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
তাদের মৃত্যুর খবর কানাডা ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই প্রিয়জনকে স্মরণ করে সহকর্মী ও বন্ধুরা আবেগঘন শোকবার্তা দিচ্ছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে।

