মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ প্রতিবেশী কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাদের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই এসব হুঁশিয়ারি দেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

রেজাইয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, প্রতিবেশী দেশগুলো যেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কর্মসূচিতে যুক্ত না হয়। কোনো দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপে অংশ নিলে তেহরান সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

ইরান নতুন করে সংঘাতের বিস্তার চায় না বলেও দাবি করেন রেজাই। তবে প্রতিবেশী কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে সহযোগিতা করলে সেই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি

রেজাইয়ের হুঁশিয়ারিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টি।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহযোগিতা করলে পারস্য উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি হতে দেবে না ইরান। উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানিতে যেসব বিকল্প পথ ব্যবহার করে, প্রয়োজন হলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিলে তেহরানও অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে পাল্টা জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন রেজাই।

হরমুজ নিয়ে অনড় তেহরান

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন বক্তব্য দিলেও হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ওয়াশিংটন তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো সমঝোতা কার্যকরের ক্ষেত্রে এবার যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রথমে তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের প্রধান ভূমিকা থাকার পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি। তার দাবি, পারস্য উপসাগরের মোট উপকূলরেখার অর্ধেকের বেশি ইরানের আওতায় থাকায় হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত।

ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণার পর হুঁশিয়ারি

ইরানের এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নকরণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করার বিষয়ে সতর্ক করছে।

জুনের সমঝোতার পরও অচলাবস্থা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈরিতা বন্ধ এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল।

তবে সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে।

বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আন্তর্জাতিক সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই নৌপথ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আরও বাড়লে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

রেজাই অবশ্য দাবি করেছেন, ইরান পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসান চায় এবং যুদ্ধ সম্প্রসারণে আগ্রহী নয়। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে কোনো প্রতিবেশী দেশ যুক্ত হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন