রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ফেরার ঘোষণার পরই বড় অঙ্কের আইনি খরচের মুখে প্রিন্স হ্যারি

স্ত্রী মেগান মার্কেল ও দুই সন্তানকে নিয়ে ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ধাক্কার মুখে পড়েছেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইলের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে করা গোপনীয়তা ও অবৈধ তথ্য সংগ্রহসংক্রান্ত মামলায় পরাজয়ের পর হ্যারিসহ সাত বাদীকে প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার পাউন্ডের বেশি আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি ম্যাথিউ নিকলিনের দেওয়া আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে সাত বাদীকে সম্মিলিতভাবে ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫ পাউন্ড এএনএলকে দিতে হবে। এটি চূড়ান্ত আইনি ব্যয় নয়; প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির মোট কত টাকা আদায়যোগ্য হবে, তা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

মামলার বাদীদের মধ্যে প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও রয়েছেন সংগীতশিল্পী স্যার এলটন জন, তাঁর স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লি ও স্যাডি ফ্রস্ট, ব্যারনেস ডোরিন লরেন্স এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সাবেক উপনেতা সাইমন হিউজেস।

আইনি খরচের দাবি সাড়ে ৩ কোটি পাউন্ড

এএনএল আদালতকে জানিয়েছে, মামলাটি পরিচালনা করতে তাদের মোট আইনি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে বাদীদের বিমা সুরক্ষা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত আইনি ব্যয় বহন করতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত এএনএলের দাবির বড় অংশ অনুমোদিত হলে বিমার আওতার বাইরেও বাদীদের ব্যক্তিগতভাবে বিপুল অর্থ বহনের ঝুঁকি রয়েছে।

তবে এএনএল দাবি করলেই পুরো ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পাবে—এমন সিদ্ধান্ত আদালত দেয়নি। বিচারপতি নিকলিন এই অঙ্ককে আপাতদৃষ্টিতে অত্যধিক বলে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ আদায় করতে পারবে, তার নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমাও তিনি বেঁধে দেননি।

বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি পাউন্ড ১৬৬ টাকা ধরে এএনএলের দাবি করা ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ডের পরিমাণ প্রায় ৫৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর আদালতের নির্দেশিত প্রাথমিক ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার পাউন্ডের অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা

বাদীদের আচরণের সমালোচনা আদালতের

শুক্রবারের রায়ে বাদীদের মামলা পরিচালনার পদ্ধতিরও কঠোর সমালোচনা করেন বিচারপতি নিকলিন। আদালত মনে করেন, গুরুতর কিছু অভিযোগ যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই বহাল রেখে মামলাটি যেভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অযৌক্তিক ছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার অতিরিক্ত আইনি খরচ ‘ইনডেমনিটি বেসিসে’ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে এ ধরনের আদেশ বিজয়ী পক্ষকে আইনি ব্যয় আদায়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে।

গত ৭ জুলাই ১১ সপ্তাহের বিচার শেষে বিচারপতি নিকলিন হ্যারিসহ সাতজনের করা মামলাগুলো খারিজ করে দেন। বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন, ডেইলি মেইল ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশনাগুলোর জন্য অবৈধ উপায়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এএনএল শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। আদালত শেষ পর্যন্ত বলেন, প্রকাশিত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ প্রমাণে বাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন এবং শুধু সন্দেহকে যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

বাদীদের আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁরা আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।

যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই ধাক্কা

আদালতের এই আদেশ এমন সময়ে এল, যখন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল তাঁদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছয় বছর আগে তাঁরা রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরলেও তাঁরা কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ফিরছেন না।

এএনএল শুক্রবারের রায়কে তাদের সংবাদপত্র, সাংবাদিক, সম্পাদক ও নির্বাহীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে মামলার মূল রায় ঘোষণার পর প্রিন্স হ্যারি ও ব্যারনেস ডোরিন লরেন্স হতাশা প্রকাশ করেছিলেন এবং সিদ্ধান্তটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

এখন প্রিন্স হ্যারিসহ সাত বাদীর সামনে দুটি বড় প্রশ্ন—তাঁরা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না এবং এএনএলের চূড়ান্ত আইনি খরচ নির্ধারিত হলে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে কত অর্থ বহন করতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন