অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, যাত্রী প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই ছাড়া কেউ বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং প্রতিজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন দর্শনার্থী প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে বেবিচকের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ গণমাধ্যমকে সভার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ সম্পর্কে অবহিত করেন।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়ন, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও কঠোর করার সুপারিশ করা হয়। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে স্থাপিত আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে সচল স্ক্যানারগুলোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন অচল থাকা যন্ত্রগুলো দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানিং মিররের মাধ্যমে যানবাহন তল্লাশি অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

সভায় ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা তল্লাশি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় আইকাও নিরাপত্তা নিরীক্ষা (অডিট) সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এমওইউ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী নির্দেশনা জারির সুপারিশ করা হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম কমিটির সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেবিচকের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং এভিয়েশন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন