অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নতুন অধ্যায়: উদ্বোধন হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নবনির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে স্মৃতিফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি, তৎকালীন সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতনের সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিলপত্র, ভিডিওচিত্র, স্মারক এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদান পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

এরপর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাদুঘরটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসই নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিকতাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।

তিনি বলেন, ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, ভিডিওচিত্র, শিল্পকর্মসহ সব ধরনের ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশি-বিদেশি গবেষক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

আলোচনা সভা শেষে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী ও উপস্থিত অতিথিরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন