অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

খুলনায় কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে মানব পাচার: পিবিআইয়ের অভিযানে স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

খুলনায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানব পাচারের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থান করতেন। তিনি তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তারের মাধ্যমে প্রতিবেশী মোস্তাকীম হাসান কাজী, শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলসহ পাঁচজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠান। তবে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগীরা দেশে ফিরে জিহাদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনা দুটি সিআর মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে দৌলতপুর থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়। পরে গত ২৭ জুলাই পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাগুলোর তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ আগস্ট সাভারের আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্ত জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, এক লাখ টাকা মাসিক বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নারী সেজে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবয়সী পুরুষদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক যৌন আলাপ চালিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া তাদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না এবং মানবেতর পরিবেশে রাখা হতো।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা কৌশলে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জিহাদও দেশে ফিরে আসে। ভুক্তভোগীরা তাদের অর্থ ফেরত চাইলে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী সাভারে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপন করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, এই মানব পাচার ও প্রতারণার সঙ্গে আরও কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন