অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

সংলাপের আহ্বান জানালেন কারাবন্দি মাদুরো, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু আগামী সপ্তাহে

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন দেশটির কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং পুনর্মিলনের লক্ষ্যে যেকোনো গঠনমূলক আলোচনাকে তিনি স্বাগত জানান।

মাদুরোর এই বার্তা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন আগামী সপ্তাহে কারাকাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর-সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্রে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত মামলায় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে উভয়েই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন।

মাদুরোর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তায় জাতীয় পুনর্জাগরণের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। যদিও তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে এই বার্তা প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার ছেলে ও আইনপ্রণেতা নিকোলাস মাদুরো গুয়েরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই বার্তা পুনরায় প্রকাশ করেছেন।

মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে বিদেশি, বিশেষ করে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সরকারের প্রধান আলোচক ও জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রড্রিগেজ জানিয়েছেন, বিরোধী নেত্রী দিনোরাহ ফিগুয়েরার সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আলোচনায় ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং রাজনৈতিক অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে বলে তিনি জানান।

তবে বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো এই সংলাপে অংশ নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, আলোচনার পথে তিনি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত জুনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা দেশটির পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহের সংলাপ সফল হলে তা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন