অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’

গুমে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আইনি কাঠামো; সম্পত্তি আইনে সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

প্রান্তকাল ডেস্ক | ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনের উদ্দেশ্য হলো গুমকে একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, বিচার, ভুক্তভোগীদের অধিকার সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবিত বা মৃত অবস্থার কোনো সন্ধান না মিললে, দায়ী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইনটির খসড়ায় আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর পরিচয় সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার, সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও আইনে গুরুত্ব পেয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পত্তি আইনে সংশোধনের অনুমোদন

বৈঠকে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সম্পত্তি সন্তান বা উত্তরাধিকারীদের নামে দান করলেও নিজে সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার আইনগতভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই আইনি অনিশ্চয়তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণে নতুন সিদ্ধান্ত

মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা, ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে।

সরকার জানিয়েছে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের মতামত গ্রহণ ছাড়া তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ কারণে এর বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ায় বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

এরই মধ্যে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন তালিকা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তালিকাটি হালনাগাদ করে এমন মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত

  • ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন।
  • গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান।
  • ভুক্তভোগী ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা।
  • ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুমোদন।
  • অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬ বাতিল।
  • নতুন ওষুধের তালিকা প্রণয়ন ও জনস্বার্থে মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন