ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেয়নি।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন সম্প্রতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন।
কেন আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস?
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্যতম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সক্রিয় নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব আলোচনা মূলত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জনপরিসরের জল্পনা; তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বিবেচনায় আসতে পারে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জল্পনাই
এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন বা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক তফসিল বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামসহ যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে, সেগুলোকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ক্ষমতাসীন জোটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নতুন রাষ্ট্রপতির পরিচয় স্পষ্ট হবে।

