অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত বাংলাদেশ-ভারত

ঢাকা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ। ফলে কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অমীমাংসিত ও সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, যেগুলোর সমাধান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে উভয় পক্ষই অবগত এবং এগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

ভারতের আমন্ত্রণে আগামী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সামনে আরও কয়েকটি বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তাঁর অংশগ্রহণের বিষয় রয়েছে। তাই সব কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা

সম্প্রতি ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সফর ‘অনুসন্ধানমূলক’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সম্ভাব্য ঢাকা সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মূলত একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার, বিভিন্ন নীতিগত বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান অংশীদার।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ‘জিরো-সাম’ নয় বাংলাদেশের কূটনীতি

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনোভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’-এর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে নয়। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে এবং ভবিষ্যতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা রয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের আশাবাদ

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, সংস্কৃতি, সংগীত, খেলাধুলা—বিশেষ করে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের এটি কেবল সূচনা।

এর আগে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন