অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রস্তাব বিনিময়, আলোচনায় ইরান ও ওমান

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রণালির নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল এবং পরিচালন কাঠামো নিয়ে উভয় দেশ পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওমান একটি আঞ্চলিক সমন্বয়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালির পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শুল্কের পরিবর্তে স্বেচ্ছাভিত্তিক অর্থপ্রদানের একটি ব্যবস্থা বিবেচনার প্রস্তাবও রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত কাঠামোতে কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান ইরান ও ওমান—উভয় দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট বা রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো কাঠামো কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের প্রতি পারস্পরিক সম্মতি অপরিহার্য।

এ বিষয়ে ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রস্তাব বিনিময়ের পরবর্তী ধাপ এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক সূত্র।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন