অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহীমের টেলিফোনে আলোচনা

দেশের চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় আনোয়ার ইব্রাহিম বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন।

দেশের বিদ্যমান জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং সংকট মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সাধারণ ভোক্তা—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে বিদেশি অংশীদারদের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করেছে। সেই দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দিনরাত কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীও সার্বিক অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সম্ভাবনাও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, কারিগরি পরামর্শ এবং জ্বালানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার পথ খোলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)-এর কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। ওই সফরে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তার ভাষায়, ভাসমান এলএনজি সুবিধার পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই হবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।

সরকারের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন