অনুসরণ করুন:
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— “Bangladesh and a Changing World: Uncharted Times, Emerging Orders, and the Politics of Care”

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় অতিক্রম করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এবং নতুন বাস্তবতা দেশের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ হারানোদেরও স্মরণ করেন।

নিজেকে পেশাদার বিশ্লেষক নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকেই দেশের মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেছেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, কৃষি উৎপাদন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ঐক্য, সাহস ও কর্মক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আরও এগিয়ে যাবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন