বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে এই অনশন শুরু হয়, যা শনিবার দুপুর পর্যন্তও চলছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও উত্সব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
শনিবার দুপুর ১২টায় কালো পতাকা মিছিল বের করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। পাশাপাশি রোববার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বড় সমাবেশের মাধ্যমে ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শহিদ মিনারে অবস্থান ও শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য
শুক্রবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮০০ শিক্ষক-কর্মচারী শহিদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শহিদ মিনার থেকে শিববাড়ি মোড় হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন, পরে পুনরায় শহিদ মিনারে ফিরে অবস্থান নেন।
এ সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন,
“হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে, এটাকে দুর্বলতা মনে করা ভুল হবে। প্রয়োজনে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী একত্রিত হয়ে রাজধানী অচল করে দেবে।”
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রায় ৪ লাখ সদস্য এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনও সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃষ্টিতে ভিজে স্লোগান, তবুও অবস্থান অব্যাহত
শিক্ষকরা শুক্রবার বিকেল থেকে শহিদ মিনারে অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যেও তারা স্লোগান দিতে থাকেন—“ন্যায্য দাবি মানতে হবে,” “শিক্ষকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দাও।”
খুলনা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া আসমা আক্তার বলেন,
“বছরের পর বছর মাত্র এক হাজার টাকার বাড়ি ভাতা পাই। এখন ২ হাজার করার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু আজকের দিনে ২ হাজার টাকায় কি একটি ঘর ভাড়া পাওয়া যায়?”
দাবি ও পটভূমি
শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, সরকারের অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা যে হারে বাড়ি ভাতা পাচ্ছেন, শিক্ষকরা এখনো পুরোনো স্কেলে রয়েছেন। বর্তমান সময়ের ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে এই ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের প্রধান দাবি—
- বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি
- চিকিৎসা ভাতা ও উত্সব ভাতা হালনাগাদ বেতন কাঠামো অনুযায়ী সমন্বয়
- শিক্ষা উপদেষ্টার ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’–এর নিন্দা ও ক্ষমা প্রার্থনা
গত ছয় দিন ধরে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগে পালাক্রমে আন্দোলন করছেন। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, “ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা শহিদ মিনার ছেড়ে যাব না। এটি আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও মানবিক জীবনের লড়াই।”

