আইন প্রণয়নে বাধার মুখে পড়লেও ভেটো, নির্বাহী আদেশ ও পররাষ্ট্রনীতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকছে বিস্তর ক্ষমতা
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টিকে হটিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। চার বছর মেয়াদের শেষ দুই বছরে এসে এই ফল ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক পরিভাষায় এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে বলা হয় ‘লেম ডাক’ বা ‘খোঁড়া হাঁস’। অর্থাৎ, পদে বহাল থাকলেও আইনসভায় বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণের কারণে তার কার্যকর ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।
তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সরল নয়। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার হাতে সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ক্ষমতা রয়েছে। ভেটো প্রয়োগ, নির্বাহী আদেশ এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো ক্ষেত্রে এসব ক্ষমতা ব্যবহার করে মেয়াদের শেষ দুই বছরেও নিজের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে পারবেন তিনি।
ভেটো হতে পারে ট্রাম্পের প্রধান অস্ত্র
কানসাস ও টেক্সাসের মতো কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে বড় জয় পেয়ে বুধবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
গত দুই বছর আইনসভার দুই কক্ষেই নিজ দলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কার্যকর জবাবদিহি বা বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়নি ট্রাম্পকে। কিন্তু নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। এরপর ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিল উত্থাপন ও পাসের উদ্যোগ নিতে পারবে।
তবে কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের কাছে গেলে তাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো ‘পাগলামির প্রস্তাবে’ তিনি সই করবেন না। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লাল টুপিতে ‘ভিটো’ লেখা একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি।
অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটদের হাতে আইন পাসের ক্ষমতা এলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে আইন প্রণয়নে দুই পক্ষের সংঘাত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত রোববার নিউ ইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে তিনি হয়তো টানা এক বা দুই মাস শুধু ভেটো দিয়ে যাবেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আমি এবার মিস্টার ভিটো হতে যাচ্ছি। তারপর কোনো একপর্যায়ে হয়তো আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাব।’
হোয়াইট হাউস অবশ্য গত কয়েক মাস ধরেই কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিবাসন, শুল্ক আরোপ, আবাসন ব্যয় ও কেন্দ্রীয় বাজেট বরাদ্দের মতো বিষয়গুলোতে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের নীতি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুঁজবে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক বিশ্লেষণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্পের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ভেটো কী
কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বড় কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা ও নির্বাহী কর্তৃত্ব তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের সপ্তম ধারা অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে সাধারণত প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট চাইলে বিলে স্বাক্ষর না করে ভেটো দিয়ে তা আটকে দিতে পারেন।
তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে প্রেসিডেন্টের ভেটো অকার্যকর করা সম্ভব। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের হাতে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কোনো বিলের খসড়া বা ভাষা নিজে পরিবর্তন করতে পারেন না। তবে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়ে আইন প্রণয়নের আগে নিজের শর্ত মেনে নিতে কংগ্রেসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে ‘পকেট ভেটো’ প্রয়োগের সুযোগ। কোনো বিল প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানোর পর তিনি ১০ দিনের মধ্যে তাতে স্বাক্ষর না করলে এবং এর মধ্যে কংগ্রেসের অধিবেশন মুলতবি হয়ে গেলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এ ধরনের ভেটো কংগ্রেসের ভোটে বাতিল করা যায় না।
আগে কতবার ভেটো দিয়েছেন ট্রাম্প
ইউসি সান্তা বারবারার ‘আমেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মোট ১০ বার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিনি দুইবার ভেটো দিয়েছেন।
তুলনামূলকভাবে জো বাইডেন চার বছরের মেয়াদে ১৩ বার এবং বারাক ওবামা দুই মেয়াদে ১২ বার ভেটো প্রয়োগ করেছিলেন।
গত ডিসেম্বরে কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থনে পাস হওয়া দুটি বিলে ভেটো দেন ট্রাম্প। এর একটি ছিল কলোরাডোর একটি নতুন পানিসম্পদ পাইপলাইনের ব্যয় স্থানীয় জনগণের জন্য কমানোর প্রস্তাবসংক্রান্ত বিল। বিলটি উত্থাপন করেছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ‘মাগা’ নেত্রী লরেন বোয়েবার্ট।
অন্য বিলটি ছিল ফ্লোরিডার আদিবাসী মিকোসুকি উপজাতির জন্য একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে। ওই আইনের আওতায় উপজাতিটি তাদের ভূমির ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পেত।
ট্রাম্পের দাবি, উপজাতিটি তার অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করেছে। এভারগ্লেডসে অভিবাসীদের জন্য গড়ে তোলা ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রাজ’ নামে পরিচিত বিতর্কিত বন্দিশিবির বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মিকোসুকি উপজাতিও ছিল।
আইন পাস ছাড়াই নিজের ক্ষমতা বাড়াতে অতীতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার ক্ষমতাও ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। কংগ্রেস চাইলে জরুরি অবস্থা বাতিলের প্রস্তাব পাস করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা বাতিল করতেও দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।
যেসব ক্ষেত্রে বিপাকে পড়তে পারেন ট্রাম্প
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসন, তার পরিবার ও সহযোগীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তদন্তে কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে ছাড় দাবি করতে পারে তারা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগও বাধার মুখে পড়তে পারে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতির পদ শূন্য হলে সেখানে নিজের পছন্দের কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যা করতে পারবেন ট্রাম্প
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্টের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা বহাল থাকবে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা ও আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে এ দুটি ক্ষেত্রেই তার সক্রিয়তা বেশি দেখা গেছে। তিনি ইরানের ওপর সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাতে পারেন।
তবে অন্য দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করলে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে কোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
সমঝোতা নাকি দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা
নীতি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি। এর বড় উদাহরণ হিসেবে ইরানকে ঘিরে তার সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে তীব্র অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। আশা করি কোনো সমাধান বের হবে।’
ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতিতে সরকার সচল রাখতে দুই পক্ষের সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে বাজেট নিয়ে সমঝোতায় বসতে হয়েছিল।
ক্লিনটন রিপাবলিকানদের আনা বিলে ভেটো দিলে সরকারে প্রায় এক মাস ধরে ‘শাটডাউন’ বা অচলাবস্থা চলে। পরে কর ও ব্যয় কমানোর প্রশ্নে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছে ১৯৯৭ সালে ‘ব্যালেন্সড বাজেট অ্যাক্ট’ পাস করে।
তবে বিশ্লেষকদের বড় অংশের ধারণা, ট্রাম্প সহজে আপসের পথে হাঁটবেন না। অরাজনৈতিক বিশ্লেষণ সংস্থা ‘ইনসাইড ইলেকশনস’-এর সম্পাদক ন্যাথান গঞ্জালেস বলেন, গত দুই বছরে ট্রাম্প কার্যত কংগ্রেসকে এড়িয়ে একের পর এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করেছেন। বিরোধী সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখেও তিনি এই ধারাই অব্যাহত রাখতে পারেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটদের আইন পাসের উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হয়তো তাদের পছন্দের ৫০টি দারুণ দারুণ বিল পাস করে পাঠাবে, আর আমি সিল মেরে সবগুলো ফেরত পাঠিয়ে দেব।’
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের মার্কিন ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেবেকা স্টোন মনে করেন, ট্রাম্প একের পর এক ভেটো দিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করলে তা রিপাবলিকানদের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।
তার মতে, ট্রাম্পকে আর পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে না, কিন্তু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের দুই বছর পরই আবার ভোটে লড়তে হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর রাজনৈতিক স্থবিরতার দায় রিপাবলিকানদের ওপর পড়তে পারে। দেশ সচল রাখতে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করলে মধ্যপন্থী ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
ফলে দলকে রক্ষা করতে নিজ নেতার অনমনীয় অবস্থানের বিরোধিতা করাকেই হয়তো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে বিবেচনা করবেন।

