ইসরায়েলে নিজের প্রতি ৯৯ শতাংশ সমর্থনের দাবি ট্রাম্পের; বছরের শেষ নাগাদ দেশটিকে বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধের কথা জানালেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ৯৯ শতাংশ। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
‘ইসরায়েলে আমার প্রতি সমর্থন ৯৯ শতাংশ’
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলে আমার প্রতি সমর্থনের হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে আমি ইসরায়েল চলে যাব এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী হব।’
ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তবে তাঁর দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে কোনো জরিপ বা পরিসংখ্যানের উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধে সমঝোতার দাবি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেশটিকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থসহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমরা ইসরায়েলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে থাকি। কয়েক মাস আগে আমরা এই সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একমত হয়েছি যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’
ইসরায়েলের আর সহায়তার প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইসরায়েলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ ইসরায়েলকে দেওয়া অর্থকে রিপাবলিকানদের সমালোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তবে সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু
এদিকে মঙ্গলবার দিনভর ভোট গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।
নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

