জাপোরিঝঝিয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন অনেকে; আহত ৫, নিখোঁজ অন্তত ২৭ জন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থানে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিক হিসাবে ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের প্রধান মিখাইলো সেমিকিন।
সোমবারের হামলার পর ঘটনাস্থলে বিশাল গর্ত ও ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলার কারণে কয়েক দফায় উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মানবিক সহায়তার স্থানে পরপর দুই দফা হামলা
জেলেনস্কি বলেন, মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজে ব্যবহৃত স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম হামলা চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় হামলা হয় সেই স্থানে, যেখানে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সোমবারের হামলার পর সৃষ্ট বিশাল গর্ত ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৮ বলে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। পরে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ ডিএসএনএস দুই উদ্ধারকর্মী ও চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সোমবার গভীর রাতে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন অনেকে
জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের প্রধান মিখাইলো সেমিকিন এ হামলাকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখনো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
সেমিকিন জানান, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তবে আশপাশে রাশিয়ার ড্রোন হামলার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছে।
হামলায় আহত পাঁচজনের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
‘রাশিয়া উত্তেজনা কমাতে চায় না’: জেলেনস্কি
জেলেনস্কি বলেন, কোমিশুভাখায় অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে সোমবার মানবিক সহায়তা পেতেন। ফলে এ কার্যক্রমের বিষয়টি রাশিয়ার অজানা থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, “এটি আরও একটি প্রমাণ যে, রাশিয়া উত্তেজনা কমাতে চায় না।”
জেলেনস্কি আরও বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যৌথ অভিযান সফল হয়েছিল। ওই উদ্যোগের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক হামলা সেই আশার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
জাপোরিঝঝিয়ায় শোক দিবস ঘোষণা
হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় মঙ্গলবার পুরো জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
আবুধাবিতে শান্তি আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর রাশিয়ার হামলা জোরদার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে ইউক্রেনের।
আসন্ন আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। উইটকফের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা, উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক সহায়তা এবং শান্তির পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা এ সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ও ন্যাটোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

