মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনায় ছাত্রী নিহত, ছয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজট, নিরাপদ সড়কসহ ছয় দফা দাবি শিক্ষার্থীদের।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাঁদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের খৈয়াছড়া এলাকায়। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।

বাসের চাপায় প্রাণ গেল মাইশার

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মাইশাসহ তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার জন্য তাঁরা ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তিন ছাত্রীকে চাপা দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে মাইশার মৃত্যু হয়। আহত অপর দুই ছাত্রীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ, তীব্র যানজট

সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা ক্যাম্পাসের সামনের মহাসড়ক ও সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। একপর্যায়ে রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ছয় দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো—

১. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।

২. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস ও লরির চালককে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪. ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের উভয় পাশে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. লরির মালিকপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৬. শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ফুটওভারব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার না থাকার অভিযোগ

আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান শাহরিয়ার সৌরভ বলেন, এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দ্রুতগতিতে শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের উভয় পাশে কোনো স্পিড ব্রেকার নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য দীর্ঘদিনেও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসের সামনে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতো।

যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনার উদ্যোগ

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন