মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের ফের তিন দিনের রিমান্ড

সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল তদন্ত কর্মকর্তা; সিসিটিভি ফুটেজ, যোগাযোগ ও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, ঘটনাস্থল শনাক্ত, আলামত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য দীপকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তাহসিফ ও দীপের চলাফেরা নিয়ে তদন্ত

রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।

আবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাছের বস্তি এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে বাজার বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠের দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন লোককে দেখে তাঁরা আলাদা হয়ে যান।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও দিশার সঙ্গে দেখা গেছে বলে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে উঠে এসেছে। ঘটনার আগে তাঁদের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা এবং একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতেও দেখা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করবে পুলিশ

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, দীপকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রহ করা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় দীপ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে চায় তদন্ত দল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন, তবে তিনি কৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ও কথোপকথন বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানতে চায়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষ বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং এর পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না। এগুলো তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন ও অভিযোগ; এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।

রিমান্ডের বিরোধিতা আসামিপক্ষের

দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। শুনানিতে মুতাসিম বিল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, চার দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পরপরই আবার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার যৌক্তিকতা কী।

তিনি বলেন, বারবার রিমান্ডে নিয়ে আসামিকে জোর করে স্বীকারোক্তি দেওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ঘটনার রাতে কে ফোন করেছিলেন এবং কে দীপকে বাসা থেকে বের করে এনেছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য ইতোমধ্যে রয়েছে। তবে তিনি জানান, ওই দিনও আসামির জামিনের আবেদন করেননি।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় তাঁকে এজলাসে তোলা হয়।

দিশারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় নিহত তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকেও গত ১ নভেম্বর চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাত ১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে ওই মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন