নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বৈধ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত এক কর্মশালায়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কুমিল্লায় ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির বিদ্যমান সক্ষমতা, চলমান কার্যক্রম এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাহিনীর ভবিষ্যৎ অবদানের সম্ভাবনা তুলে ধরেন কুমিল্লার জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া।
কর্মশালায় উপস্থাপনায় তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা আনসার-ভিডিপিকে নিরাপদ অভিবাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈধ বিদেশে কর্মসংস্থান এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
উপস্থাপনায় বাহিনীর পাঁচটি উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী তৈরি, নিজস্ব লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জাপানে যেতে আগ্রহীদের জন্য জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ ভিডিপি সদস্যদের অভিবাসন ঋণ সুবিধা প্রদান।
এ ছাড়া ভিডিপি সদস্যদের কাজে লাগিয়ে গ্রাম ও তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপদ, বৈধ ও নথিভুক্ত অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় বলা হয়, নিরাপদ অভিবাসনের জন্য শুধু বিদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা, ভাষাগত যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অংশগ্রহণকারীরা বাহিনীর চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বৈধ বিদেশে কর্মসংস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তাঁরা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূরুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার।
এ সময় আইওএমের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিসহ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনসম্পৃক্ততাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আনসার-ভিডিপির ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

