কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এর পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল দলগুলোর দৈনিক এআই ব্যবহারের ব্যয়সীমা কমিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের জন্যও আরও কঠোর ব্যয়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবরে অ্যাপল তার প্রকৌশল দলগুলোর দৈনিক এআই ব্যবহারের ব্যয়সীমা ৩০০ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে এই সীমা আরও কমিয়ে দৈনিক ১০০ ডলারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু প্রকৌশল বিভাগ নয়, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিভাগেও এআই ব্যবহারের খরচ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব বিভাগের জন্য দৈনিক ব্যয়সীমা ২৫ ডলার পর্যন্ত নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠানটির কাছে মন্তব্য চেয়েছে।
এআই ব্যবহারে উৎসাহের পর ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নজর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের দৈনন্দিন কাজ, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের এআই টুল ব্যবহারে উৎসাহিত করে। সফটওয়্যার কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়।
কিন্তু ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রযুক্তি পরিচালনার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে এবং সেই সুবিধার তুলনায় খরচ কত হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
টোকেন ব্যবহারের খরচ নিয়ে উদ্বেগ
আধুনিক জেনারেটিভ এআই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা এবং তৈরি করা উত্তরের পরিমাণ সাধারণত ‘টোকেন’ হিসেবে গণনা করা হয়। অনেক এআই সেবার মূল্য নির্ধারিত হয় এই টোকেন ব্যবহারের ভিত্তিতে।
জটিল সফটওয়্যার উন্নয়ন, বড় আকারের কোড বিশ্লেষণ কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ টোকেন প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
চলতি বছরের শুরুতে প্রযুক্তি খাতে কর্মীদের ব্যাপকভাবে এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করার প্রবণতা দেখা গেলেও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সীমা নির্ধারণের দিকে ঝুঁকছে।
উৎপাদনশীলতা ও ব্যয়ের ভারসাম্যই বড় চ্যালেঞ্জ
প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। উন্নত এআই মডেল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও সেই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়।
অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ ব্যয়সীমা কমানোর উদ্যোগকে এই বৃহত্তর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে কর্মীদের এআই ব্যবহারের ব্যয়সীমা কমানো মানেই প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে সামগ্রিক বিনিয়োগ কমাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ দুটি পৃথক বিষয়।
অ্যাপলের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, সেই অনুপাতে প্রতিষ্ঠানগুলো কি পরিমাপযোগ্য আর্থিক ও উৎপাদনশীলতার সুবিধা পাচ্ছে?
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ ও টেকক্রাঞ্চ।

