বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রাণিসম্পদ খাতে দেশের চাহিদার ৮৫ শতাংশ ভ্যাকসিন আমদানি করতে হয়; গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদারের আহ্বান

প্রাণিসম্পদ খাতে ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের চাহিদার ৮৫ শতাংশ ভ্যাকসিন আমদানি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে বর্তমানে দেশের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ ভ্যাকসিন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী ওয়ান হেলথ ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রাণিজ খাদ্যের নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

তাই প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য যেন নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রান্তিক খামারিদের অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিএলআরআইয়ের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রশংসা

বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবনের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুটি ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের গতি আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকরা কারখানায় কাজে ফিরেছেন।

তবে শ্রমিকদের কাজে যোগদানে বাধা সৃষ্টি করে একটি পক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলার প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী, গবেষক ও খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন