মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় জামিন বাতিল; সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের জামিন বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সময়ের আবেদন নামঞ্জুর
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর জানান, আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
তিনি আরও জানান, এদিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। তবে শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন বাতিলের নির্দেশ দেন।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) সময় চেয়ে আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। সময় না দিলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি
২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এরপর গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
২০২২ সালে মামলা করেন নাসির উদ্দিন
২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতেন এবং পার্সেল নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করতেন না। এ ছাড়া পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তারা দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করার পর ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
বাদী নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি নাসির উদ্দিনকে ডেকে তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্লু লেবেল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
এজাহারে নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরীমনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
পরীমনির করা আরেক মামলা বিচারাধীন
বোট ক্লাবের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

