সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমবে; বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কিছু এলাকায় স্বল্পচাপের আশঙ্কা।
রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে আজ বুধবার থেকে টানা চার দিন সারা দেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে এ সময়ে কোথাও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ
দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল। সামিট এলএনজির টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে এবার নভেম্বরের শুরুতেই গ্যাস সরবরাহ কমবে।
গত বছর ডিসেম্বরে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও এবার কাজটি নভেম্বরের শুরুতে করা হচ্ছে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে আরও দুই দিন মিলিয়ে মোট চার দিন এ কাজে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকবে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. শোয়েব বলেন, রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমবে। এরপরও গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকবে।
তিনি জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। তবে কোথাও গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার কথা নয়।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব
গত ১ নভেম্বর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পেট্রোবাংলা জানায়, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কথা নেই। গ্রাহকেরা যাতে কোনোভাবেই আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে কি না, অনিশ্চয়তা
রক্ষণাবেক্ষণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. শোয়েব বলেন, গ্যাস লাইনে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে ফিরে না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে সাময়িকভাবে সরবরাহ কম থাকায় কিছু এলাকায় গ্রাহকদের গ্যাসের স্বল্পচাপের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।

