সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আগামীকাল থেকে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের উদ্যোগ, কাজে ফেরার আহ্বান মালিকপক্ষের

চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

তবে মঙ্গলবার থেকে দেশের সব পোশাক কারখানা একযোগে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টায় চালু রাখার কোনো সর্বজনীন সরকারি নির্দেশনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার (২ নভেম্বর) মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৬৯০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এসব কারখানায় ১৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মরত।

গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার-আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বিদ্যমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে তাঁদের।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ছয় সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। নতুন বোর্ড শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

এদিকে সোমবার সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান শ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনের কারণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে পারেন মালিকেরা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হলে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে আনা যাবে।

সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতগুলো কারখানা চালু হবে, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের কাজে ফেরা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন