সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ে নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আটোয়ারীতে নারীকে হত্যা করে রেললাইনে মরদেহ ফেলে রাখার মামলায় রায়; আদালতে উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করে তাঁর মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখার মামলায় মো. রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর খলিলুর রহমান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আক্তার হোসেন।

চোরাই অটোরিকশাসহ আটকের পর সামনে আসে হত্যাকাণ্ড

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী উপজেলার হাজী শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চোরাই অটোরিকশাসহ স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হন রিফাত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

এ সময় তাঁর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে ওই ফোনে পাওয়া ছবি ও ভিডিও এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সামনে আসে।

ট্রেনে পরিচয়ের পর কিসমত স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

তদন্ত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা আন্তঃনগর ট্রেনে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ওঠেন রিফাত। ট্রেনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশনে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে কিসমত রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে নিয়ে যান তিনি। সেদিন রাত ৯টার দিকে তাঁরা আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট এলাকায় পৌঁছান।

ধর্ষণের পর হত্যা, রেললাইনে ফেলে রাখা হয় মরদেহ

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রথমে শাপলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একটি কক্ষে এবং পরে পাশের একটি বাগানে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন রিফাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীর ওড়না দিয়ে তাঁর দুই হাত পেছনে বেঁধে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে আটকে রাখা হয়। পরে একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এরপর ১৪ জানুয়ারি ভোরে মরদেহটি টানাহেঁচড়া করে কিসমত রেলগেটের উত্তরে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে রেললাইনের ওপর রেখে যাওয়া হয়।

পরে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের নিচে পড়ে মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রথমে দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।

সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মৃত্যুদণ্ডের রায়

পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর খলিলুর রহমান বাসসকে বলেন, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করেছে। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে অপরাধের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন