জাহাজ নির্মাণ, ড্রাই ডক স্থাপন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, জাহাজ নির্মাণশিল্প এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আজ জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার।
তিনি বলেন, লি কুয়ান ইউ-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। তাঁর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ
সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মান বাড়ানো ও এর সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সহজ হবে।
জাহাজ নির্মাণ ও ড্রাই ডক স্থাপনে সম্ভাবনা
সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণশিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরেন ডেরেক লো। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার এবং ড্রাই ডক স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুফল অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
এ খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংসদীয় সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময়
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় সংসদীয় সফর বিনিময় এবং সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন স্পিকার ও হাইকমিশনার।
এ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাবলিক পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়েও তাঁরা মতবিনিময় করেন।
সমুদ্র উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আমন্ত্রণ
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান স্পিকার। এ ক্ষেত্রে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

