হেমায়েতপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ; একেএইচ গ্রুপের কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এক কারখানায় কর্মবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে আশপাশের কারখানার শ্রমিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন। এ সময় হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একেএইচ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এক কারখানায় কর্মবিরতি দিয়ে শুরু
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পদ্মার মোড় এলাকার দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ওভেন লিমিটেডের সুইং সেকশনের প্রায় ২০০ শ্রমিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।
সকাল ১০টা ৫ মিনিটে মালিকপক্ষের অনুরোধে শ্রমিকেরা আবার কাজে যোগ দেন। তবে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তাঁরা পুনরায় কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় কারখানার চতুর্থ তলার সুইং সেকশনের একটি ফ্লোরে শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়ে কাজ বন্ধ রাখেন।
পদ্মার মোড়ে জড়ো হন আশপাশের কারখানার শ্রমিকেরা
দুপুর ১টার দিকে মধ্যাহ্নবিরতি শুরু হলে শ্রমিকেরা খাবারের জন্য কারখানা থেকে বের হন। তবে বিরতি শেষে তাঁরা আর কারখানায় প্রবেশ না করে সামনের সড়ক অবরোধ করেন।
পরে আশপাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে আন্দোলনকারীরা কারখানার সামনের সড়ক থেকে পদ্মার মোড়ের দিকে রওনা হন। এ সময় আন্দোলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো শ্রমিকদের নামিয়ে আনতে কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা পদ্মার মোড়ে জড়ো হন।
মহাসড়ক অবরোধ, কারখানায় ভাঙচুর ও আগুন
দুপুর ২টার দিকে শ্রমিকেরা পদ্মার মোড় থেকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে অগ্রসর হন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা।
দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শ্রমিকেরা মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন। এ সময় হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একেএইচ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পুলিশের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
সাভার মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে অবরোধ তুলে নেওয়ার পরও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

