ঢাকায় বিজনেস সামিট আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত রাষ্ট্রপতির, জনশক্তি, পর্যটন ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, পর্যটন ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউ রশীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এ সময় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন হাইকমিশনার শিউ রশীদ। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ঢাকায় বিজনেস সামিটের পরিকল্পনা
ঢাকায় একটি বিজনেস সামিট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান মালদ্বীপের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
জনশক্তি, পর্যটন ও মৎস্য খাতে সহযোগিতা
মালদ্বীপের অর্থনীতিতে কর্মরত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে জনশক্তি, পর্যটন, মৎস্য ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের সুযোগের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রপতি জানান, এ ক্ষেত্রে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
সার্ক পুনরুজ্জীবনে মালদ্বীপের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনে মালদ্বীপের সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

