ইউরোপে যাওয়ার আশায় অনিয়মিত পথে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন তাঁরা; প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ, খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে আইওএম
লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ১৭২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ায় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫১ মিনিটে লিবিয়ার মিসরাতা থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকার ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে প্রত্যাবাসন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে সহযোগিতা করেছে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।
ইউরোপে যাওয়ার পথে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ফেরা অধিকাংশ বাংলাদেশি মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে পৌঁছানো।
উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মতে, তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও দুর্ভোগের বিবরণ অন্যদের বিপজ্জনক পথে ইউরোপযাত্রা থেকে নিরুৎসাহিত করতে সহায়তা করতে পারে।
ফেরত আসা প্রত্যেককে সহায়তা দিয়েছে আইওএম
পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে আইওএম দেশে ফেরা প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের ফেরাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত
লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে আটককেন্দ্রে থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সর্বশেষ প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম দেশটি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

