শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্বোধন হতে পারে চট্টগ্রামের তিন প্রকল্প, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চালু হবে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি র‍্যাম্প; যানজট কমানো ও বন্দরের সড়কে চাপ কমানোর আশা

আগামী ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি বড় যোগাযোগ অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পগুলো হলো পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট আউটার রিং রোড, কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে নির্মিত কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড এবং ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি র‍্যাম্প।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্বোধন হতে পারে প্রকল্পগুলোর। এগুলো চালু হলে নগরীর যানজট কমার পাশাপাশি বন্দরের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমবে এবং যাতায়াতে সময় সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি র‍্যাম্প চালুর প্রস্তুতি

নগরীর যানজট নিরসন ও বন্দরের ওপর চাপ কমাতে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উড়ালসড়কটি চালু হলেও ওঠানামার র‍্যাম্পগুলো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না নগরবাসী।

আগামী ডিসেম্বরে এক্সপ্রেসওয়েটির নয়টি র‍্যাম্পই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আটটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগ্রাবাদে অবস্থিত বাকি র‍্যাম্পটির কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিমুল বলেন, কাজ শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী দিনরাত কাজ চলছে। আগ্রাবাদের র‍্যাম্পটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই তা শেষ হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নয়টি র‍্যাম্পের মধ্যে আটটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি একটির কাজ চলছে।

সব র‍্যাম্প চালু হলে নগরীর সড়ক যোগাযোগে গতি বাড়ার পাশাপাশি বন্দরমুখী সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগর উপকূলে আউটার রিং রোড

চট্টগ্রাম নগরী ও বন্দরের ওপর চাপ কমাতে শহরের পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আউটার রিং রোড।

১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সড়কটি চালু হলে নগরীর ভেতরের সড়ক এড়িয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্ণফুলীর তীরঘেঁষে কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড

নগরীর পূর্ব প্রান্তে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড। প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

সড়কটি চালু হলে নগরীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতে সময় কমার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থায় সুবিধা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্বোধন

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসবেন। এ সময় তিনি শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চাক্তাই-কালুরঘাট রিং রোড এবং ফৌজদারহাট-পতেঙ্গা রিং রোড উদ্বোধন করবেন। ডিসেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্বোধন হতে পারে।

এদিকে, নগরবাসীর সুবিধা বাড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিদ্যমান নয়টি র‍্যাম্পের পাশাপাশি নতুন করে আরও তিনটি র‍্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনটি প্রকল্প চালু হলে নগরীর যানজট নিরসন, বন্দরের সড়কে চাপ কমানো এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন