৮৪ শতাংশের বেশি ব্যালট গণনায় নেতানিয়াহুর জোট ৫৪ আসনে, গাদি আইজেনকটের জোট ৪৯ আসনে; সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। তবে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি কোনো পক্ষই। ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিরোধী জোটের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইসরায়েলের প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যালট বাক্সের গণনা শেষে প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন। আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭টিতে। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এ হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। <Cite refs={[“turn723412search0″,”turn723412search3”]}/>
সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী এবং অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
অন্যদিকে, সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। মধ্য-বামপন্থী থেকে ডানপন্থী বিভিন্ন দলকে নিয়ে গঠিত এই জোট নির্বাচনের আগে প্রকাশিত কিছু জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
তবে আংশিক ফলাফলে দুই পক্ষের কেউই ৬১ আসনের সীমায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সম্ভাব্য জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। <Cite refs={[“turn723412search4″,”turn723412news12”]}/>
সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো
নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলো আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের অনেক দলই আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিল।
আংশিক ফলাফলে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা ১৭ থেকে ১৯-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ গণনার হিসাবে তাদের আসন কমে ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। ভোট গণনার সঙ্গে এই হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ফলে নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের পথ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। একইভাবে বিরোধী জোটের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনাও নির্ভর করছে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ওপর। <Cite refs={[“turn723412search0″,”turn723412search6”]}/>
শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর
জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির নির্বাচনী সদর দপ্তরে বুধবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু একটি ‘শক্তিশালী, ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি দূর করার জন্য ইসরায়েল একটি ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা প্ররোচনা যেন তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। নির্বাচনের আংশিক ফল প্রকাশের পর ট্রাম্পও দাবি করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থন নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। <Cite refs={[“turn723412search3″,”turn723412news12”]}/>
নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন নিজের অবদান বলে দাবি ট্রাম্পের
টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বুধবার ভোরে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থন ঘোষণা নির্বাচনে তাঁকে সহায়তা করে থাকতে পারে। তবে ফলাফলকে নিশ্চিত জয় হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্কতাও ছিল তাঁর বক্তব্যে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ভালো করেছেন—এমন খবর তিনি শুনেছেন। তবে ফলাফলকে জয় কিংবা ড্র হিসেবে দেখা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের ফল এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং জোট গঠনের আলোচনা থেকেই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

