ফারাক্কা ও তিস্তার পানিপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পক্ষে মত বিএনপির এই নেতার
বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ না থাকায় ১৯৯৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের নতজানু নীতির কারণে পানির প্রশ্নে বাংলাদেশকে আরও বেশি প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছে প্রতিবেশী দেশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা এবং নদ-নদী রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পদ্মা ও তিস্তার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান
রিজভী বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় পদ্মা ও তিস্তার পানিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, ফারাক্কার প্রভাবে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে পানিসংকটের সমাধান করা গেলে সমস্যা কোথায়? পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে দেশের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আলোচনার তাগিদ
পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে পানি চুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা আদায়ে কথা বলতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পরিমাণ পানি কখনোই পায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে যথাযথভাবে আলোচনাও হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। ভারত নিজেও পানিসংকটের মুখোমুখি হলেও অন্য দেশের পানি কেড়ে নিতে দ্বিধা করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে জবাবদিহিতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব
এর আগে বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত গণসংলাপে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বক্তব্য দেন রিজভী।
তিনি অভিযোগ করেন, কুইক রেন্টালের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করেছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে জবাবদিহিতা থাকায় এ ধরনের সুযোগ নেই।
এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রিজভী বলেন, জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।

