বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

১৫ নভেম্বরের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণ শুরু করতে হবে

রাজউকের আওতাধীন এলাকার ১ হাজার ২৬৯টি ভবনকে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকার লেকগুলো দূষণমুক্ত রাখতে এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে ইমারত নির্মাণ আইন ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজউকের আওতাধীন এলাকার লেকগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গঠিত কারিগরি কমিটির সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

১ হাজার ২৬৯টি ভবনকে চূড়ান্ত নোটিশ

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া ১ হাজার ২৬৯টি ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট সোসাইটিগুলোর কাছে পাঠানো হবে।

এসব ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না হলে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

নকশা অনুমোদনের আবেদন তিন দিনে নিষ্পত্তি

সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এ-সংক্রান্ত আবেদন পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্মাণকাজের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভবনমালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, পানির গুণগত মান উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

লেকগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও আবাসিক সোসাইটিগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের উপস্থিতিতে সভায় আরও ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম এবং রাজউকের সদস্য এরাদুল হক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রফিকুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কে এম মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সুমন।

বারিধারা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাকিফ এ তাবানী ও সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মতিন, বনানী সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন এবং নিকেতন সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম চৌধুরী আরিফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন