অনলাইন গেমিং স্ক্যাম ও জুয়াসংশ্লিষ্ট প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চার বাংলাদেশিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন মালয়েশীয় নাগরিক। দেশটির কেদা রাজ্যের কুয়ালা মুডা জেলার তামান লাগেনদা এলাকার একটি পরিত্যক্ত হোটেলে অবস্থান করে গত জুন থেকে এই চক্র অনলাইন গেমিং জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম মালয়মেইল রোববার কুয়ালা মুডা জেলা পুলিশ প্রধান এসিপি হানইয়ান রামলানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া চার বাংলাদেশি ও দুই মালয়েশীয় নাগরিকের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর রাতে কুয়ালা মুডা জেলা পুলিশের বাণিজ্যিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিসিআইডি) একটি দল অভিযান চালিয়ে ২০ থেকে ৫৩ বছর বয়সী চার বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার জেলা পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসিপি হানইয়ান রামলান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তিদের অনলাইন গেমিং জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা তামান লাগেনদা এলাকার একটি পরিত্যক্ত হোটেল ভবনে অবস্থান করে গত জুন থেকে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির প্রধান লক্ষ্য ছিল মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। অনলাইন গেমিংয়ের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং গেমে জয়ের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
এসিপি রামলানের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভিযুক্তরা প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত করে পেতেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে এই অর্থের প্রকৃতি, কারা তা দিতেন এবং চক্রটির মাধ্যমে মোট কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চক্রটি অনলাইন গেমের ক্রেডিট টপ-আপ এবং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ওয়েবসাইট ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকেরা গেমে জেতার পর সেই অর্থ তুলে নিতে চাইলে পরিকল্পিতভাবে তা বিলম্বিত করা হতো। কখনো উত্তোলনের অনুরোধের বিপরীতে সিস্টেমে ‘স্ট্যাটাস পেন্ডিং উইথড্রয়াল’ দেখিয়ে রাখা হতো। এতে গ্রাহকেরা তাঁদের জেতা অর্থ হাতে পেতেন না বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এই পদ্ধতিতে গ্রাহকদের অর্থ আটকে রেখে প্রতারণা করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত শুক্রবার পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে ৪০ ও ৫০ বছর বয়সী দুই মালয়েশীয় পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, তাঁদের একজন পরিত্যক্ত হোটেল ভবনটির মালিক এবং অন্যজন ভবনটি ভাড়া দেওয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ভবনটি কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশ অনলাইন গেমিং কার্যক্রম, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এবং অর্থ লেনদেনের ধরন অনুসন্ধান করছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাঁদের অর্থের পরিমাণ কত—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণার অভিযোগটি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও সতর্কতার বিষয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

