সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ, যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর সেখানে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আজ তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার নথিতে ওই মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইশ, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

পুলিশের অভিযোগ, মন্তব্যটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সহিংসতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার পর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের সঙ্গে মামলার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে।

২৩ অক্টোবর রমনা থানায় মামলা

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত করছেন একই বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল তথ্য

মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি, মন্তব্য প্রকাশের প্রেক্ষাপট, জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল উপাত্ত যাচাই করা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তদন্তে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যের ভিত্তিতে দায়ের করা এ মামলায় তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃতি, ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে।

আদালতের রিমান্ড আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার আগে আবু বকর সিদ্দিককে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন