রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, সাত বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে রেহানা হত্যা মামলায় এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন ট্রাইব্যুনাল

সাত বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. মিজানুর রহমান প্রকাশ ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার আগে আসামি মিজানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যৌতুকের জন্য নির্যাতন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে মিজানের সঙ্গে মোসা. রেহানার বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে রেহানার বাবার কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেন মিজান। এরপরও তিনি আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই মিজানকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা কম দেওয়ায় ওই দিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় রেহানাকে মারধর করেন মিজান। পরে গলাটিপে তাঁকে হত্যা করেন।

মামলা ও তদন্ত

এ ঘটনায় পরদিন মিজানের ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর মিজান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্কাস মিয়া মিজানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি ও মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেন আদালত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন