সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট গ্রহণ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৭২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; ২৩ ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য

সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৭২ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

মামলার চার্জশিটে বলা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ আয় থেকে নিট গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা।

এ হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পদ

চার্জশিট অনুযায়ী, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

তাঁদের মধ্যে জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

২৩ ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন

তদন্তে আনিসুল হক এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব হিসাবে জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে দুদক।

মামলা ও অভিযোগপত্র

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনিই আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন