সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাল্যবিবাহ ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস কাল, নিরাপত্তা-শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের তাগিদ

বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, সহিংসতা এবং কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাকে নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। আগামীকাল দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

কন্যাশিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তারা আগামী দিনের মানবসম্পদ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনাময় নাগরিক। যথাযথ শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি কন্যাশিশু পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

তবে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বাল্যবিবাহ তাদের স্বাভাবিক বিকাশ এবং অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি কন্যাশিশুসহ সব শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, মানসম্মত শিক্ষা লাভ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারি উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি জানান, নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিদ্যমান ক্লাবগুলোকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য। বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব

কন্যাশিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবারে সম্মান, সমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, এ ধরনের মূল্যবোধ তৈরিতে পারিবারিক শিক্ষা ও সচেতনতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কন্যাশিশুর জন্য সহায়ক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।

অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত অঙ্গীকার

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

রাষ্ট্রপতির বাণীতে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দিবসটির প্রতিপাদ্যও শিশু বিয়ে বন্ধ করে কন্যাশিশুর অগ্রযাত্রা ও ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন