হামলায় ১২ জন নিহত, আহত ৩০০-এর বেশি; বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান ঢাকার
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান
বিবৃতিতে বাংলাদেশ বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
নিহত ১২ জন, আহত তিন শতাধিক
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোববার জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি মানুষ। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ হামলার জন্য প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। জোটটি হামলাটিকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক
হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুই বাংলাদেশি ছাড়াও চার সৌদি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

