বাংলাদেশের সব নাগরিককে সমানভাবে দেখার পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার বাংলাদেশ। শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘শিশু অধিকার দিবস-২০২৬’ ও ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সব নাগরিককে সমানভাবে দেখতে চাই। ছেলে ও মেয়েদেরকেও সমানভাবে দেখতে চাই। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশকে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা করা হচ্ছে, সেখানে শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের পথনির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা করছি সেখানে এই শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, আমরা শিশুদের স্বার্থে আগামীর পথনির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য সবাই মিলে কাজ করব।’
শিশুদের সৃজনশীল ও মেধার বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো সভ্য সমাজে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশের জন্য এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক ও যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সন্তানরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে বাবা-মা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহ দেখান না। এ ধরনের আচরণ শিশুদের স্বাভাবিক জ্ঞান ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ছেলে-মেয়েরা যত প্রশ্ন করবে, তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ তাদের জানতে হবে, শিখতে হবে। শিশুর যে সময়ে যে ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন, সে সময় তাকে সেই শিক্ষা দিতে হবে।
আগামী প্রজন্মকে শুধু প্রচলিত শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুললেই হবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশুদের খেলাধুলা, অঙ্কন, সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাদের গান শেখা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশে শুধু লেখাপড়ায় ভালো করাই যথেষ্ট নয়। খেলাধুলা, অঙ্কন, সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শিশুদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি শক্ত ভিত তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এমপি।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি এবং শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অধিকার, সৃজনশীলতা, মেধা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।

