আন্তর্বর্তী সরকারের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে দেশের পুঁজিবাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি ব্রডার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে চলেছে। এই ভিত্তি থেকে ইকোনমির টেক-অফ হলে পুঁজিবাজারেও এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
রবিবার (২৫ মে) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, “পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ সংস্কার আনার নামে আরেক ডাকাতের জায়গা নিচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সবসময় প্রতারিত হয়েছেন। কিন্তু এখন সেই চক্র ভাঙতে গভীর ও নির্মম সংস্কার প্রয়োজন।”
তিনি জানান, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদেশি শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল আনা হবে, যারা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে শেয়ারবাজার সংস্কারের রূপরেখা দেবে।
পোর্ট সংস্কার ও বিনিয়োগ আকর্ষণ
প্রেস সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিশ্বের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা চলছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপি মূলার-মারস্ক এবং সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “পোর্টের এফিশিয়েন্সি বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবে। এফডিআই বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারে। আমরা শেয়ারবাজারকে আর গোষ্ঠীস্বার্থের হাতে জিম্মি রাখতে চাই না।”
ব্যাংকিং ও মুদ্রানীতি বিষয়ে মত
প্রেস সচিব বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ছিল একপ্রকার ধ্বংসস্তূপের মতো। এখন সেখানে টেকসই পুনর্গঠন চলছে। দুই সপ্তাহ আগে টাকার কারেন্সি ফ্লোট করলেও বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়নি, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি জানান, সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষে তা ৫ শতাংশের নিচে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা
শফিকুল আলম বলেন, “চায়না থেকে জুনে ১৫০ জনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আসছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থানে গতি আনবে এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।”
রাজস্ব সংস্কার ও এনবিআর বিভাজন
তিনি আরও বলেন, “ট্যাক্স ব্যবস্থার সংস্কার সরকারের অগ্রাধিকার। এনবিআরকে বিভক্ত করার মাধ্যমে আমরা ট্যাক্স সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করতে যাচ্ছি।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই বিষয়ে আর কোনো ধোঁয়াশা নেই।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছি যেখানে জব গ্রোথ, বিনিয়োগ, শেয়ার মার্কেট—সব কিছুই একে অপরকে শক্তিশালী করবে।”
