দেশে চলমান হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষায় বাংলাদেশের জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউনিসেফের মাধ্যমে দেওয়া এ সহায়তার লক্ষ্য হলো চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং নির্ধারিত বয়সসীমার শিশুদের টিকার আওতা বাড়ানো।
এ কর্মসূচির আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শনে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স
রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে চলমান টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিক জিলান।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টরা শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম এবং চলমান ক্যাচ-আপ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।
‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় সহায়তা
মার্কিন মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাই এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় বাংলাদেশের জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ইউনিসেফের মাধ্যমে দেওয়া এ সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের চলমান টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা এবং নির্ধারিত বয়সসীমার শিশুদের টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা।
ইউনিসেফের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় ইউনিসেফ বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ইমিউনাইজেশন লিড ডা. রিয়াদ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী ক্যাচ-আপ কর্মসূচি
বাংলাদেশে চলমান হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষায় দেশব্যাপী এ ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকাদানের মাধ্যমে হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি যেসব শিশু কোনো কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে, তাদেরও টিকাদানের আওতায় আনা জরুরি। এ ধরনের ক্যাচ-আপ কর্মসূচি টিকাদানের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টিকার আওতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য
ইউনিসেফের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তার অন্যতম লক্ষ্য হলো নির্ধারিত বয়সসীমার শিশুদের মধ্যে টিকার আওতা আরও বাড়ানো। একই সঙ্গে সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সক্ষমতা জোরদার করে চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তা করা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট শিশুদের একটি বড় অংশকে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনা গেলে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কমানো এবং শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করা সম্ভব হবে।
দেশব্যাপী এ কর্মসূচিতে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যুক্ত হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

