বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

টোকিও ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে ৩০ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ

জাপানের রাজধানী টোকিওর বিগ সাইটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছে।

আজ বুধবার জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। খবর তথ্যবিবরণীর।

বাংলাদেশের সোর্সিং সক্ষমতা তুলে ধরে সেমিনার

প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনের পর টোকিও বিগ সাইটের এক্সিবিশন হলে ‘বাংলাদেশ: সোর্সিং এক্সিলেন্স ফর অ্যাপারেল, হোম টেক্সটাইল এন্ড লেদার প্রডাক্টস’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস এবং বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান এবং জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

জাপানি ব্যবসার নির্ভরযোগ্য অংশীদার বাংলাদেশ

সেমিনারে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি উৎপাদনকারী দেশ নয়; জাপানি ব্যবসার জন্য দেশটি একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবেও নিজেদের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, আইটিইএস এবং এগ্রো-প্রসেসিংয়ের মতো বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

প্রতিযোগিতামূলক দাম, দক্ষ ও তরুণ কর্মীবাহিনী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে সুনামের সঙ্গে পণ্য সরবরাহ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরএমজি খাতে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়।

বিশ্বখ্যাত ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা ও ওয়ালমার্টের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক দেশের পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দাউদ আলী বলেন, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক—২৩০টিরও বেশি—এলইইডি সার্টিফায়েড গ্রিন গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে।

চামড়া ও পাদুকা খাতে বড় সম্ভাবনা

চামড়া ও পাদুকা খাতকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, তৈরি পোশাকের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত।

এ খাত থেকে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতের রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের চামড়া, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইপিএ বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করবে

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মো. দাউদ আলী।

তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়াতে নিয়মিত বাণিজ্য মেলা, সেমিনার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে যোগাযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশি পণ্যের মানের প্রশংসা জেট্রোর কর্মকর্তার

সেমিনারে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরেন।

তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের অ্যাপারেল, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

ইউজি আন্দো বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত উচ্চমানের। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রয়েছে।

২৫ কোম্পানির ২৭ বুথ, অংশ নিচ্ছে আরও পাঁচ প্রতিষ্ঠান

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিওতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।

মেলায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীনে ২৫টি বাংলাদেশি কোম্পানি ২৭টি বুথে তাদের পণ্য প্রদর্শন করছে। এর পাশাপাশি আরও পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে মেলায় অংশ নিয়েছে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে জাপানি আমদানিকারক, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিচিতি ও রপ্তানি সম্ভাবনা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।

জাপানের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের প্রত্যাশা

‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও জাপানি আমদানিকারক-বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন